দরুদে তাজ শরীফ বাংলা উচ্চারণ ও বাংলা অর্থ ও ফযীলত সহ

দরুদে তাজ শরীফ বাংলা উচ্চারণ ও বাংলা অর্থ  সহ

 

দরুদে তাজ শরীফের ফযীলত বাংলা উচ্চারণ ও বাংলা অর্থ সহ 

দুরুদে তাজ অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল । আমরা প্রত্যেক এর আমল করা অনেক জরুরি । আপনারা যারা আমাদেরকে দুরুদে তাজের ফজায়েল সম্পর্কে লেখার জন্য বলেছেন তাদের জন্য ধন্যবাদ । আজকে আপনাদের জন্য দুরুদে তাজের ফজায়েল এবং আমল সম্পর্কে খুবই বিস্তারিত আলোচনা করছি । তো আশা করব আপনারা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়বেন ।

  • পবিত্রতা লাভের জন্য ফজরের নামাযের পর ৭বার, আছরের নামাযের পর ৩বার, ইশার নামাযের পর ৩ বার পড়তে হয়। এই দুরূদ শরীফ সর্বদা পড়লে মনের বাসনা পূর্ণ হয়। জুমআর রাতে এ’শার নামায শেষে এই দুরূদ শরীফ ১৮০ বার পাঠ করে শুয়ে থাকলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর জিয়ারত নসীব হবে ইন্শাআল্লাহ। 
  • পাক পবিত্রতার সাথে এ দরূদে তাজ শরীফ প্রত্যেহ ১১ বার পাঠ করলে জ্বীন প্রেতের আক্রমন হতে নিরাপদ থাকা যাবে। (পরীক্ষিত)
  • প্রত্যেক প্রত্যুষে সুর্য্য উঠার আগে এ দরূদ শরীফ ৭ বার করে পাঠ করলে রুজি রোজগার বৃদ্ধি পাবে।
  • প্রত্যেক ফজরের নামাজের পর ৭ বার পাঠ করলে নেক কাজের প্রতি হৃদয়ের আকর্ষণ বৃদ্ধি পাবে।
  • চিরবন্ধা নারী যদি সন্তান পেতে চায় তাহলে এ দরূদ শরীফ ৭ বার পাঠ করে একটা শুকানো খুরমার উপর ফুঁক দিয়ে খাওয়ায়ে দিলে ইনশাআল্লাহ সন্তান লাভ করবে।
  • যদি কেউ নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্বপ্নে দেখার ইচ্ছা রাখেন। তারা প্রতি শুক্রবার রাতে এশার নামাজের পর পবিত্রতার সাথে আতর গোলাপ মেখে দরূদে তাজ শরীফ পাঠ করে এবং সেখানেই নিদ্রা যাবেন। এ নিয়তে আমল করলে ইনশাআল্লাহ ১১ রাত্রি উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের (স্বপ্নযোগে) সাক্ষাত মিলবে।
  • যে ব্যক্তি মধ্যরাতের পর অযু সহকারে দরূদেতাজ ৪০  বার   পাঠ  করবে   খোদার    মর্জিতে  তার    যেকোন নেক মকসুদ পূর্ণ হবে।
  • যাদু,     জ্বিনের      আছর,     শয়তানের     কুমন্ত্রণা     ও বসন্তরোগ   থেকে  রা  পাওয়ার   জন্য  উক্ত  দরূদশরীফ ১১বার   পাঠ   করে   পানিতে     ফুঁক   দিলে    ইনশায়াল্লাহ উপকার হবে। (আল অজিফাতুল কারীমা)।
  • যে   ব্যক্তি  প্রতিদিন  ফজরের নামাযের পর  ৭  বার  আসর  ও   এশার  নামাযের   পর   ৩  বার  নিয়মিত  পাঠ  করবে, তার অন্তর নূরে উদ্ভাসিত হবে।
  • অভাবের কারণে ইজ্জত হুরমত নষ্ট হওয়ার উপক্রম দেখা দিলে  উক্ত  দরূদশরীফ প্রত্যেক নামাযের পর  ৭ বার এবং এশার নামাযের পর ১০০ বার নিয়মিত পাঠ করতে          হবে।  আল্লাহর ফজল ও করমে  রুজি-রোজগারে খয়র ও বরকত হবে এবং অভাব মুক্ত হবে।
  • যে  ব্যক্তি এ দরূদশরীফ নিয়মিত  পাঠ করবে, তার কবর    নূরে  আলোকিত   হবে    এবং  পুলসিরাত  পলকে পার হবে। (মজমুয়ায়ে অজায়েফ)

দরুদে তাজ আরবী:


اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلىٰ سَيِّدِنَا وَمَوْلَانَا مُحَمَّدٍ صَاحِبِ التَّاجِ وَالْمِعْرَاجِ وَالْبُرَاقِ وَالْعَلَمِ دَافِعِ الْبَلَاءِ وَالْوَبَاءِ وَالْقَحَطِ وَالْمَرَضِ وَالاَلَمِ اِسْمُهُ مَكْتُوْبٌ مَرْفُوْعٌ مَشْفُوْعٌ مَنْقُوْشٌ فِي اللَّوْحِ وَالْقَلَمِ سَيِّدِ الْعَرَبِ وَالْعَجَمِ جِسْمُهُ مُقَدَّسٌ مُعَطَّرٌ مُطَهَّرٌ مُنَوَّرٌ فِي الْبَيْتِ وَالْحَرَمِ شَمْسِ الضُّحىٰ بَدْرِ الدَّجىٰ صَدْرِ الْعُلىٰ نُوْرِ الْهُدٰى كَهْفِ الْوَرٰى مِصْبَاحِ الظُّلَمِ جَمِيْلِ الشِّيَمِ شَفِيْعِ الْاُمَمِ صَاحِبِ الْجُوْدِ وَالْكَرَمِ وَاللهُ عَاصِمُهُ وَجِبْرِيْلُ خَادِمُهُ وَالْبُرَاقُ مَرْكَبُهُ وَالْمِعْرَاجُ سَفَرُهُ وَسِدْرَةُ الْمُنْتَهٰى مَقَامُهُ وَقَابَ قَوْسَيْنِ مَطْلُوْبُهُ وَالْمَطْلُوْبُ مَقْصُوْدُهُ وَالْمَقْصُوْدُ مَوْجُوْدُهُ سَيِّدِ الْمُرْسَلِيْنَ خَاتَمِ النَّبِيّيْنَ شَفِيْعِ الْمُذْنَبِيْنَ اَنِيْسِ الْغَرِيْبِيْنَ رَحْمَةً لِلْعٰلَمِيْنَ رَاحَةً الْعَاشِقِيْنَ مُرَادِ الْمُشْتَاقِيْنَ شَمْسِ الْعَارِفِيْنَ سِرَاجِ السَّالِكِيْنَ مِصْبَاحِ الْمُقَرَّبِيْنَ مُحِبِّ الْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِيْنَ سَيِّدِ الثَّقْلَيْنِ نَبِيِّ الْحَرَمَيْنِ اِمَامِ الْقِبْلَتَيْنِ وَسِيْلَتِنَا فِي الدَّارَيْنِ صَاحِبِ قَابَ قَوْسَيْنِ مَحْبُوْبِ رَبِّ الْمَشْرِقَيْنِ وَالْمَغْرِبَيْنِ جَدِّ الْحَسَنِ وَالْحُسَيْنِ مَوْلَانَا وَمَوْلىٰ الثَّقْلَيْنِ اَبِى الْقَاسِمِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ نُوْرٍ مِنْ نُوْرِ اللهِ يَا اَيُّهَا الْمُشْتَاقُوْنَ بِنُوْرِ جَمَالِهٖ صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيْمًا

দুরুদে তাজ আরবী

দরুদে তাজ শরীফ বাংলা উচ্চারণ

 দরুদে তাজের বাংলা উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা সাইয়্যিদিনা ওয়া মাওলানা মুহাম্মাদিন সাহিবিত তাজি ওয়াল মি’রাজি ওয়াল বুরাকি ওয়াল আলাম। দাফিয়িল বালায়ি ওয়াল ওয়াবা’য়ি ওয়াল কাহাতি ওয়াল মারাদ্বি ওয়াল আলাম। ইসমুহু মাকতুবুম মারফুউম মাশফুউম মানকুশুন ফিল লাওহি ওয়াল ক্বালাম। সায়্যিদিল আরাবি ওয়াল আযাম। জিসমুহু মুকাদ্দাসুম মুওয়াত্তারুম মুতাহ-হারুম মুনাউ-ওয়ারুন ফিল বাইতি ওয়াল হারাম। শামসিদ্দোহা বাদরিদ্দুজা সাদরিল উলা নুরিল হুদা কাহফিল ওয়ারা মিসবাহিয যুলাম, জামীলিশ শিয়াম, শাফিয়িল উমাম। সাহিবিল যূদি ওয়াল কারাম। ওয়াল্লাহু আসিমুহু ওয়া জিব্রিলু খাদিমুহু ওয়াল বুরাকু মারকাবুহু ওয়াল মি’রাজু সাফারুহু ওয়া সিদরাতুল মুনতাহা মাকামুহু, ওয়া কাবা কাওসাইনি মাতলুবুহু ওয়াল মাতলুবু মাকসুদুহু ওয়াল মাকসুদু মাওজুদুহ। সাইয়্যিদিল মুরসালীন, খাতিমিন নাবিয়্যিন, শাফী’ইল মুজনিবীন, আনিসীল গারিবীন, রাহমাতুল্লিল আলামিন, রাহাতিল আশিকীন, মুরাদিল মুশতাকীন, শামসিল আ’রিফিন, সিরাজিস সালিকীন, মিসবাহিল মুকার-রাবীন, মুহিব্বিল ফুকারা’য়ি ওয়াল গুরাবা’য়ি ওয়াল মাসাকীন, সায়্যিদিল সাকালাইন, নাবিয়্যিল হারামাইন, ইমামিল ক্বিবলাতাইন, ওয়াসীলাতিনা ফিদ দারাইন, সাহিবিল কাবা কাওসাইনি মাহবুবি রাব্বিল মাশরিকাইনি ওয়াল মাগরিবাইন, জাদ্দিল হাসানি ওয়াল হুসাইন, রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুমা মাওলানা ওয়া মাওলাস ছাকালাইন আবিল কাসিমি সায়্যিদিনা ওয়া হাবীবিনা মুহাম্মাদিবনি (সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়াসাল্লাম) আবদিল্লাহি নূরিম মিন নূরিল্লাহি ইয়া আয়্যূহাল মুশতাকুনা বিনূরী জামালিহী সাল্লু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া আসহাবিহী ওয়া সাল্লিমু তাসলিমা।

দরুদে তাজের বাংলা উচ্চারণ


দরুদে তাজের অর্থঃ

হে আল্লাহ! আমাদের মুনিব (সর্দার) ও সাহায্যকারী (পৃষ্ঠপোষক) হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। রাজমুকুটধারী, উর্ধ্বগমণকারী, বুরাক ও সত্যের ধারক, দুঃখ মোচনকারী, রোগব্যাধী, অনাবৃষ্টি, অসুস্থতা ও ব্যাথা দূরকারী। যাঁর নাম আরশে লিখিত, লওহে মাহফুজে ও কলমে খোদাইকৃত। আরবের ও অনারবের অধিপতি। যাঁর দেহমোবারক পবিত্রও সুবাসিত, নিখাদ ও উজ্জ্বল হেরম শরীফে ও গৃহে। উজ্জ্বলতার সূর্য, আধাঁরে পূর্ণিমার চাঁদ। 

সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত, পথনির্দেশনার আলো, দূর্ভাগাদের আশ্রয়স্থল, অন্ধকার দূরীভূতকারী বাতি, অনুপম চরিত্রেরঅধিকারী, সকলের সুপারিশকারী, দয়া ও দানশীলতার অধিকারী। আল্লাহ উনার রক্ষক, জিব্রাইল আলাইহিস সালাম উনার সেবক, বুরাক উনার বাহন, মিরাজ উনার যাত্রা, সিদরাতুল মুনতাহা (সর্বশেষ স্থান) উনার যাত্রা বিরতির স্থান, দুই ধনুক ব্যবধান বা তার চেয়েও সন্নিকটে যাওয়া উনার আকাংখা। 

উনার আকাংখাই উনার লক্ষ্য এবং তিনি লক্ষ্য অর্জন করেছেন। সর্বশ্রেষ্ঠ ও শেষ নবী, পাপীদেরসুপারিশকারী, গরীবদের বন্ধু, বিশ্বজগতের জন্য রহমত, প্রেমিকদের প্রশান্তি, ব্যাকুলদের পরম চাওয়া, খোদা সন্ধানীদের জন্য সূর্য, মুসাফিরদের জন্য আলোকবর্তিকা, নৈকট্যপ্রাপ্তদের জন্য আলো, গরীব ও অসহায়দের সহায়, জিন ও মানবের সর্দার, দুই হেরম শরীফের নবী, দুই ক্বিবলার ইমাম, উভয় জগতে আমাদের অবলম্বন, ক্বাবা কাওসাইন (আল্লাহর নৈকট্য) এর মালিক। দুই পূর্ব ও দুই পশ্চিমের প্রিয়। 

হযরত ইমাম হাসান ও হযরত ইমাম হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুমার নানাজান, আমাদের ও জিনদের সাহায্যকারী (পৃষ্ঠপোষক), আবিল কাসিম রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুর পিতা, হযরত আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহুতা’আলা আনহুর পুত্র, আল্লাহর নূরের একটি নূর, ওহে! তোমরা যারা তাঁর (নবীজির) সৌন্দর্য পিয়াসী (আকাংখাকারী), তারা তাঁর (নবীজির) উপর, তাঁর (নবীজির) পরিবারবর্গের উপর ও তাঁর (নবীজির) সাহাবায়ে কিরামগণের উপর দরুদ ও সালাম প্রেরণ কর। 

(আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা সাইয়্যিদিনা মুহাম্মাদিম মাদানিল জুদি ওয়াল কারামি মাম্বাইল ইলমি ওয়াল হিলমি ওয়াল হিকামি ওয়া আলা আলিহী ওয়া আসহাবিহী ওয়া বারিক ওয়াসাল্লিম)

দরুদে তাজ শরীফ বাংলা উচ্চারণ

দরুদে তাজের অর্থ

যেকোন চাকরীর পরীক্ষার জন্য এই তথ্যগুলো জেনে রাখুন-  সাধারণ জ্ঞান ( সরকারি ও বেসরকারি চাকুরি পরিক্ষার জন্য)/ General knowledge












একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Be alert before spamming comments.

নবীনতর পূর্বতন

Sponsored

Responsive Ad