ইস্তিগফারের ফযীলত ও সাইয়েদুল ইস্তেগফার দোয়া বাংলা উচ্চারণ

ইস্তিগফারের ফযীলত ও সাইয়েদুল ইস্তেগফার দোয়া বাংলা উচ্চারণ


সাইয়েদুল ইস্তেগফার বাংলা উচ্চারণ ও ফজিলত


১৮৭১. হযরত আগার মুযানী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) ইরশাদ করেছেন, “কখনো আমার অন্তরে সাময়িক অবহেলা চলে আসে। তখন আমি আল্লাহর কাছে একশত বার তওবা-ইস্তেগফার করি। (মুসলিম)

১৮৭২. হযরত আবু হোরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (স) কে বলতে শুনেছি। তিনি বললেন, “আল্লাহর শপথ! আমি দৈনিক সত্তর বারের অধিক আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাওবা করি।” (বুখারী)

১৮৭৩. হযরত আবু হোরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) ইরশাদ করেছেন, সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার জান! তোমরা যদি পাপ না করতে, আল্লাহর তায়ালা তোমাদেরকে সরিয়ে দিয়ে অপর এক জাতিকে প্রেরণ করতেন, যারা পাপ করে আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা চাইত আর তিনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিতেন। (মুসলিম)

১৮৭৪. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, গণনা করে দেখেছি একই বৈঠকে রাসূলুল্লাহ (স) একশ’ বার এ দোয়াটি করেছেন। “রাব্বিগফিরলী ওয়া তুব আলাইয়া ইন্নাকা আনতাত্তা-ওয়াবুর রাহীম”। অর্থাৎ, আমার রব! আমাকে মাফ করুন, আমার তাওবা গ্রহণ করুন। আপনি নিশ্চয়ই তাওবা গ্রহণকারী ও দয়াময়। (আবু দাউদ ও তিরমিযী)

১৮৭৫. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) ইরশাদ করেছেন, “যে ব্যক্তি সদা-সর্বদা ইস্তিগফার চাইতে থাকে, মহান আল্লাহ তাকে প্রতিটি সংকীর্ণতা অথবা কষ্টকর অবস্থা হতে বেরিয়ে আসার অবকাশ করে দেন; প্রতিটি দুশ্চিন্তা হতে তাকে মুক্ত করেন এবং তিনি এমন সব উৎস হতে রিযিকের অবস্থা করে দেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না।” (আবু দাউদ)

১৮৭৬. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি বলে,  আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি আল্লাহর কাছে, যিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই; তিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী। আমি তাঁর কাছে তাওবা করছি। তার পাপসমূহ মাফ করে দেয়া হয়। এমনকি সে রণক্ষেত্র হতে পলায়ন করার মতো পাপ করলেও। (ইমাম আবু দাউদ, তিরমিযী ও হাকেম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)

১৮৭৭. হযরত শাদ্দাদ ইবনে আওস (রা) নবী করীম (স) থেকে বর্ণনা করেছেন, নবী (স) বললেন, সাইয়্যেদুল ইস্তিগফার (সর্বোত্তম ক্ষমা প্রার্থনা) হল, বান্দা বলবে, “হে আল্লাহ তুমি আমার রব, তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই দাস! আমি যথাসাধ্য তোমার সাথে কৃত ওয়াদা পালনে বদ্ধপরিকর। আমি যা করেছি তার মন্দ প্রভাব হতে বাঁচার জন্য তোমার আশ্রয় চাই। তুমি আমাকে যে সব অনুগ্রহ দিয়েছ তা স্বীকার করি। আমি আমার অপরাধও স্বীকার করি। সুতরাং আমাকে ক্ষমা কর। কেননা, তুমি ছাড়া গোনাহ মাফ করার আর কেউ নেই।” যে ব্যক্তি এই দু’আ পরিপূর্ণ বিশ্বাস সহকারে রাতের বেলা এই দু’আ পাঠ করে সে যদি সকাল হওয়ার মারা যায় তবে সেও জান্নাতী হবে । (বুখারী)

১৮৭৮. হযরত সাওবা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) সালাত শেষ করে তিনবার ইস্তিগফার (ক্ষমা চাইতেন) করতেন। তিনি আরও বলেন, “আল্লাহুম্মা আন্তাস-সালাম  …” অর্থাৎ, হে আল্লাহ! তুমি শান্তি, তোমারই কাছ হতে শান্তি ও নিরাপত্তা পাওয়া যায়; তুমি বরকত ও কল্যাণময়, হে গৌরব ও সম্মানের মালিক!” ইমাম আওযায়ীকে জিজ্ঞেক করা হলো, মহানবী (স) কিভাবে ইস্তিগফার করতেন? তিনি বলেন, তিনি বলতেন, আস্তাগফিরুল্লাহ (আল্লাহর কাছে মাফ চাই) আস্তাগফিরুল্লাহ। (মুসলিম)

১৮৭৯. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) ওফাতের পূর্বে অধিক সংখ্যায় এ দোয়া পাঠ করতেন, “সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি আস্তাগ ফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি, অর্থাৎ, আল্লাহ পবিত্র, সকল প্রশংসা তাঁর জন্য। আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে তাওবা করি।” ( বুখারী )

১৮৮০. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহর তায়ালা বলেন, হে আদম সন্তান! যে পর্যন্ত তুমি আমার কাছে দোয়া করতে থাকবে এবং আমার কাছে প্রত্যাশা করবে সে পর্যন্ত আমি তোমার গোনাহ ক্ষমা করতে থাকব। তা তোমাদের পাপের পরিমাণ যত বেশি যত বড় হোক না কেন। এ ব্যাপারে আমি কোন পারোয়া করবো না। হে আদম সন্তান! তোমার পাপের পরিমাণ যদি আকাশ পর্যন্ত পৌঁছে যায় আর তুমি আমার কাছে মাফ চাও, তবে আমি তোমাকে মাফ করে দেব। এ ব্যাপারে আমি পরোয়াই করবো না। হে আদম সন্তান! যদি তুমি আমার কাছে পৃথিবী প্রমাণ পাপসহ উপস্থিত হও আর আমার সাথে কাউকে শরীক না করে থাক তবে আমিও ঠিক পৃথিবী প্রমাণ ক্ষমা নিয়ে তোমার কাছে অগ্রসর হব। (তিরমিযী)

১৮৮১. হযরত আবদুল্লাহ ইবন ওমর (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (ইরশাদ করেছেন) হে মহিলাগণ! তোমরা দান কর এবং বেশি ইস্তেগফার কর। কেননা, আমি দেখেছি দোযখের অধিবাসীদের অধিকাংশই মহিলা। তাদের মধ্যে একজন বলেন, দোযখবাসীদের অধিকাংশই আমার মহিলাগণ তার হেতু কি? উত্তরে তিনি বলেন, তোমরা অধিক মাত্রায় লা’নত অভিসম্পাত করে থাক এবং স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞ ও অবাধ্য হও। জ্ঞান-বুদ্ধি ও দ্বীনের ব্যাপারে ত্রুটি তোমাদের যে কোন নারী যে কোন বুদ্ধিমান ও চতুর পুরুষকে যেভাবে হতবুদ্ধি করে দেয় তা আমি আর কোথাও দেখিনি। মাহিলাটি পুনরায় জিজ্ঞেস করেন, জ্ঞান-বুদ্ধি ও দ্বীনের ব্যাপারে আমাদের ত্রুটি অপূর্ণতা কি? তিনি বলেন, দু’জন স্ত্রীলোকের সাক্ষ্য একজন পুরুষ ব্যক্তির সমান আর ঋতুকালীন সময়ে কয়েক দিন তোমরা সালাত কায়েম করতে পারে না। ( মুসলিম)

সাইয়েদুল ইস্তেগফার বাংলা উচ্চারণ

হাদিসে অসংখ্য ইস্তেগফার বা ক্ষমার দো‘আ পাওয়া যায়। কিন্তু সব ইস্তেগফারের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ইস্তেগফার হল সাইয়েদুল ইস্তেগফার বা ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দো‘আ। নিচে সাইয়েদুল ইস্তেগফারের আরবি-অর্থসহ বাংলা উচ্চারণ দেওয়া হলঃ

اَللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّىْ لآ إِلهَ إلاَّ أَنْتَ خَلَقْتَنِىْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوْذُبِكَ مِنْ شَرِّمَا صَنَعْتُ، أبُوْءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَىَّ وَأَبُوْءُ بِذَنْبِىْ فَاغْفِرْلِىْ، فَإِنَّهُ لاَيَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلاَّ أَنْتَ



উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা আনতা রব্বী লা ইলা-হা ইল্লা আনতা খালাক্বতানী, ওয়া আনা ‘আবদুকা ওয়া আনা ‘আলা আহদিকা ওয়া ওয়া‘দিকা মাসতাত্বা‘তু, আ‘ঊযুবিকা মিন শার্রি মা ছানা‘তু। আবূউ লাকা বিনি‘মাতিকা ‘আলাইয়া ওয়া আবূউ  বিযাম্বী ফাগফিরলী ফাইন্নাহূ লা ইয়াগফিরুয্ যুনূবা ইল্লা আনতা।


অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমার পালনকর্তা। তুমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমার দাস। আমি আমার সাধ্যমত তোমার নিকটে দেওয়া অঙ্গীকারে ও প্রতিশ্রুতিতে দৃঢ় আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট হ’তে তোমার নিকটে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি আমার উপরে তোমার দেওয়া অনুগ্রহকে স্বীকার করছি এবং আমি আমার গোনাহের স্বীকৃতি দিচ্ছি। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা কর। কেননা তুমি ব্যতীত পাপসমূহ ক্ষমা করার কেউ নেই 




সাইয়েদুল ইস্তেগফারের ফজিলত

রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে এই দো‘আ পাঠ করবে, দিনে পাঠ করে রাতে মারা গেলে কিংবা রাতে পাঠ করে দিনে মারা গেলে, সে জান্নাতী হবে’।
(বুখারী, মিশকাত হা/২৩৩৫ ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, ‘ইস্তিগফার ও তওবা’ অনুচ্ছেদ-৪।)

অর্থাৎ, আমাদেরকে ফজর সালাতের পর একবার সাইয়েদুল ইস্তেগফার পথ করতে হবে এবং মাগরিব সালাতের পর একবার পাঠ করতে। 

তাছাড়া, ইস্তেগফারকারীকে  আল্লাহপাক অসংখ্য পুরষ্কার দিবেন বলে ওয়াদা করেছেন। যেমনঃ 
  • আল্লাহপাক আমাদের ক্ষমা করে দিবেন।
  • অনাবৃষ্টির সমস্যা দূর করে রহমতের বৃষ্টি নাজিল করবেন।
  • যাদের সম্পদের অভাব তা দূর করে দিবেন।
  •  অনেকেরই সন্তানহীনতার সমস্যা আছে। সম্পদ আছে কিন্তু সন্তান নেই আল্লাহপাক সন্তানহীনতার সমস্যা দূর করে দিবেন। আল্লাহ এমন সন্তান দান করবে যা তাকে শক্তিশালী করে 
  • রিযিক বৃদ্ধি করে দিবেন।
সুতরাং আমাদের উচিত বেশি থেকে বেশি ইস্তেগফার করা। এবং অন্যদেরকে ইস্তেগফার করার জন্য উপদেশ দেওয়া। 

Source -

  • রিয়াদুস সালেহীন
  • সূরা মুহাম্মদঃ ১৯
  • সুরা নিসা ১০৬
  • সূরা নাসর ৩
  • সূরা আল-ইমরান ১৫,১৬,১৭
  • সূরা নিসা ১১০,১১১,১১২
  • সূরা আল-ইমরা ১৩৫
  • সূরা আনফাল ৩৩

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Be alert before spamming comments.

নবীনতর পূর্বতন

Sponsored