অর্ধ শতাব্দীর অধিককাল ধরিয়া বাংলা ভাষায় বৈজ্ঞানিক গ্রন্থ সারাংশ

অর্ধ শতাব্দীর অধিককাল ধরিয়া বাংলা ভাষায় বৈজ্ঞানিক গ্রন্থ সারাংশ

অর্ধ শতাব্দীর অধিককাল ধরিয়া বাংলা ভাষায় বৈজ্ঞানিক গ্রন্থ-সকল প্রচারিত হইতেছে


অর্ধ শতাব্দীর অধিককাল ধরিয়া বাংলা ভাষায় বৈজ্ঞানিক গ্রন্থ-সকল প্রচারিত হইতেছে; কিন্তু ইহাতে বিশেষ কিছু ফলাফল হইয়াছে কি? বিজ্ঞান-বিষয়ক যে-সকল পুস্তকের কিছু কাটতি আছে, তাহা পাঠ্য-পুস্তক নির্বাচিত কমিটির নির্বাচিত তালিকাভুক্ত। সুতরাং পুস্তক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইবার সোপান স্বরূপ। আসল কথা এই যে, আমাদের দেশ হইতে প্রকৃত জ্ঞানস্পৃহা চলিয়া গিয়াছে। জ্ঞানের প্রতি একটা আন্তরিক টান থাকিলেও কেবল বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের অঙ্গীভূত বিদ্যালয়সমূহে বহুকাল হইতে বিজ্ঞান অধ্যাপনার ব্যবস্থা হইয়াছে। তথাপি এই জ্ঞানস্পৃহার অভাবেই বিজ্ঞানের প্রতি আন্তরিক অনুরাগসম্পন্ন ছাত্র আদৌ দেখিতে পাওয়া যায় না; কেননা ঘোড়াকে জলাশয়ের নিকট আনিলে কি হইবে? উহার তৃষ্ণা নাই। পরীক্ষা পাশ করাই যেখানকার ছাত্রজীবনের মুখ্য উদ্দেশ্য, সেখানকার যুবকগণের দ্বারা অতীত বৈজ্ঞানিক বিদ্যার শাখা-প্রশাখাদির উন্নতি হইবে, এই হাস্যোদ্দীপক উন্মত্ততা অন্য কুত্রাপিও দেখিতে পাওয়া যায় না। অপরপক্ষে অপরাপর দেশের লোকেরা একথা সম্যক উপলব্ধি করিয়াছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বার হইতে বাহির হওয়াই জ্ঞানসমুদ্রে মন্থনের প্রশস্ত সময়। আমরা দ্বারকেই গৃহ বলিয়া মনে করিয়াছি, সুতরাং জ্ঞানমন্দিরের দ্বারেই অবস্থান করি, অভ্যন্তরস্থ রত্মরাজি দৃষ্টিগোচর না করিয়াই ক্ষুন্ন মনে প্রত্যাবর্তন করি।


সারাংশ: আমাদের দেশে প্রকৃত জ্ঞান চর্চার প্রতি মানুষের আগ্রহ নেই বললেই চলে। জ্ঞানস্পৃহার অভাবে এদেশে বিজ্ঞানচর্চা প্রসার লাভ করেনি। সকলেই পরীক্ষায় পাশ করার জন্য ব্যগ্র বলেই এদেশে প্রাপ্ত গ্রন্থসমূহও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত তালিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। বিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহকে জাগিয়ে তুলে উন্নত দেশের মতো আমাদের দেশকেও বিজ্ঞানচর্চার কেন্দ্রে পরিণত করতে হবে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Be alert before spamming comments.

নবীনতর পূর্বতন

Sponsored

Responsive Ad