আল্লাহ মাটির জন্য নবী-রসূলগণের দেহকে হারাম করে দিয়েছেন ?

আল্লাহ মাটির জন্য নবী-রসূলগণের দেহকে হারাম করে দিয়েছেন ? 

Allah has prohibited the body of the Prophets for the soil?


"মহান সর্বশক্তিমান আল্লাহ মাটির জন্য নবী-রসূলগণের দেহকে হারাম করে দিয়েছেন"। (সুনান আবূ দাউদ হাদীস :১০৪৭)

২০৭. জুমু‘আহর দিন ও জুমু‘আহর রাতের ফযীলত সম্পর্কে

১০৪৭। আওস ইবনু আওস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের দিনসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম হলো জুমু’আহর দিন। এদিন আদম (আ)-কে সৃষ্টি করা হয়েছিলো, এদিনই তাঁর রূহ কবজ করা হয়েছিলো, এদিন শিংগায় ফুৎকার দেয়া হবে এবং এদিনই বিকট শব্দ করা হবে। কাজেই এদিন তোমরা আমার উপর বেশি বেশি দরূদ পাঠ করো। কারণ তোমাদের দরূদ আমার কাছে পেশ করা হয়। আওস ইবনু আওস (রাঃ) বলেন, লোকজন প্রশ্ন করলো, হে আল্লাহর রসূল! কি করে আমাদের দরূদ আপনার নিকট পেশ করা হবে? আপনি তো নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবেন। বর্ণনাকারী আওস ইবনু আওস (রাঃ) বলেন, লোকেরা বুঝাতে চাচ্ছিল আপনার শরীর তো জরাজীর্ণ হয়ে মিশে যাবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মহান সর্বশক্তিমান আল্লাহ মাটির জন্য নবী-রসূলগণের দেহকে হারাম করে দিয়েছেন।[1]

[1] নাসায়ী (অধ্যায় : সাহু, অনুঃ জুমু‘আহর দিনে নাবী সাঃ-এর উপর বেশি বেশি দরূদ পাঠ করা, হাঃ ১৩৭৩), ইবনু মাজাহ (অধ্যায় : সালাত ক্বায়িম, অনুঃ জুমু‘আহর দিনের ফাযীলাত, হাঃ ১০৮৫), হাকিম (১/২৭৮) আবূ দাউদের সূত্রে। ইমাম হাকিম বলেন : বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ। ইমাম যাহাবী তার সাথে একমত পোষণ করেছেন। ইবনু খুযাইমাহ (হাঃ১৭৩৩) আবূ কুরাইব হতে হুসাইন ইবনু ‘আলী আল-জু‘ফী থেকে।


باب فَضْلِ يَوْمِ الْجُمُعَةِ وَلَيْلَةِ الْجُمُعَةِ

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللهِ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، عَنْ أَبِي الأَشْعَثِ الصَّنْعَانِيِّ، عَنْ أَوْسِ بْنِ أَوْسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فِيهِ خُلِقَ آدَمُ وَفِيهِ قُبِضَ وَفِيهِ النَّفْخَةُ وَفِيهِ الصَّعْقَةُ فَأَكْثِرُوا عَلَىَّ مِنَ الصَّلَاةِ فِيهِ فَإِنَّ صَلَاتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَلَىَّ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ وَكَيْفَ تُعْرَضُ صَلَاتُنَا عَلَيْكَ وَقَدْ أَرِمْتَ يَقُولُونَ بَلِيتَ ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ حَرَّمَ عَلَى الأَرْضِ أَجْسَادَ الأَنْبِيَاءِ ‏"‏ ‏.‏

صحيح

Narrated Aws ibn Aws:

The Prophet (ﷺ) said: Among the most excellent of your days is Friday; on it Adam was created, on it he died, on it the last trumpet will be blown, and on it the shout will be made, so invoke more blessings on me that day, for your blessings will be submitted to me. The people asked: Messenger of Allah, how can it be that our blessings will be submitted to you while your body is decayed? He replied: Allah, the Exalted, has prohibited the earth from consuming the bodies of Prophets.

আল্লাহ মাটির জন্য নবী-রসূলগণের দেহকে হারাম করে দিয়েছেন ? Allah has prohibited the body of the Prophets for the soil?


হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (رضي الله عنها)-এর হুজরার মধ্যে রওযা মোবারক তৈরী করা হয়। হযরত আলী, হযরত আব্বাস, হযরত ফযল ইবনে আব্বাস (رضي الله عنهم) এবং নবী করীম [ﷺ]-এঁর আশ্রিত খাদেম হযরত সালেহ (رضي الله عنه)-এই চারজন সাহাবী নবী করীম [ﷺ]-কে রওযা মোবারকে নামান। হযরত আব্বাস (رضي الله عنه) দেখতে পেলেন –কাফনের ভিতরে হুযুর[ﷺ]-এঁর ঠোঁট মোবারক নড়ছে – তিনি জীবিত। তিনি কান লাগিয়ে শুনতে পেলেনঃ- নবী করীম[ﷺ] “রাব্বি হাবলি উম্মতী" বলে কাঁদছেন। ইমাম বায়হাকীর সূত্রে ইমাম তকিউদ্দিন সুবকি রেওয়ায়াত করেনঃ

ان النبي صلى الله عليه وسلم بعد ما دفن فى قبره رد الله روحه واستمرت الر وح في جسده الى يوم القيامة ليرد على من سلم عليه (شفاء السقام في ريارة خيرلانام للعلامة تقي الدين سبكى رح)

অর্থঃ-“রাসূল মকবুল [ﷺ]-কে রওযা মোবারকে দাফন করার পরপরই আল্লাহ তায়ালা তাঁর রূহ মোবারক ফেরত পাঠিয়ে দেন এবং রূহ মোবারক দেহ মোবারকের মধ্যে কেয়ামত পর্যন্ত অবস্থান করতে থাকবে – যাতে তিনি উম্মতের সালামের জবাব দিতে পারেন" (ইমাম তকিউদ্দিন সুবুকী (৬২৭হিঃ) কৃত সিফাউস সিকাম ফী যিয়ারতে খাইরিল আনাম)।

বিঃদ্রঃ ইবনে তাইমিয়া কর্তৃক নবী করীম [ﷺ]-এঁর রওযা মোবারক যিয়ারতের সফরকে শির্ক বলে ফতোয়া প্রদানের বিরুদ্ধে এবং যিয়ারত যে নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠতম উপায়, সে সম্পর্কে সুবুকীর এই গ্রন্থখানা রচিত হয়। ইবনে তাইমিয়া (৭২৮ হিঃ) ছিল ওয়াবী সম্প্রদায়ের মূল পূর্বগুরু। পরবর্তী গুরু হলো ইবনে কাইয়েম (৭৫১ হিঃ)। এর পরবর্তী গুরু ইবনে ওহাব নজদী (১২০৬ হিঃ) তার পরবর্তী ওহাবী গুরু ইসমাঈল দেহলভী (১২৪৬ হিঃ)। তার পরবর্তী গুরু কাছেম নানুতবী, গাঙ্গুহী, থানবী প্রমুখ ওহাবী নেতা। ইমাম তকিউদ্দিন সুবকী (رحمة الله عليه) ছিলেন সে যুগের (৭৫১) সুন্নী ইমাম। তাঁর লিখিত শিফাউস সিকাম গ্রন্থখানা খুবই তথ্যবহুল ও হাদীস নির্ভর।

উপরে বর্ণিত ইমাম বায়হাকী (رحمة الله عليه)-এর রেওয়ায়াতখানা একথাই প্রমাণ করে যে, নবী করীম [ﷺ]-এঁর রূহ মোবারক সোমবার দ্বিপ্রহের কিছু পূর্ব হতে মঙ্গলবার মধ্যরাত পর্যন্ত প্রায় ৪০ ঘণ্টা দেহ মোবারক থেকে বাহ্যিক দৃষ্টিতে পৃথক থাকার পর ঐ রাত্রেই পুনরায় ফেরত দান করা হয়। কাজেই নবী করীম [ﷺ] এখন সশরীরে রওযা মোবারকে হায়াতুন্নবী হিসাবে জীবিত আছেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত জীবিত থাকবেন।

এই পবিত্র জীবন ও হায়াত দুনিয়াবী হায়াত। দেওবন্দী আলেম খলীল আহমদ আম্বেটী তার প্রতারণামূলক ‘তাসদীকাত গ্রন্থে মক্কা মদীনার আলেমদের নিকট প্রতারণা করে স্বীকার করেছে যে, “নবী করীম [ﷺ] দুনিয়াবী হায়াতের সাথেই রওযা মোবারকে জীবিত আছেন এবং এটাই দেওবন্দের আক্বিদা। এই অর্থেই তিনি হায়াতুন্নবী [ﷺ]।" খলিল আহমদ আম্বেটীর এই দাবী প্রতারাণামূলক – কেননা ওহাবীপন্থী ইসমাইল দেহলভী তাকভিয়াতুল ঈমান গ্রন্থে বলেছে -“নবী করীম[ﷺ] মরে-পঁচে-গলে মাটির সাথে মিশে গিয়েছেন" (নাউজুবিল্লাহ)। (তাকভিয়াতুল ঈমান পৃষ্ঠা-৬০)। বাংলাদেশে ইসমাইল দেহলভীর অনেক অনুসারী আছে। তারাও হায়াতুন্নবী বিশ্বাস করেনা।

অথচ দেওবন্দেরই হেড মোহাদ্দেস শাহ্ আনওয়ার কাশ্মিরী তাঁর রচিত ফয়জুল বারী শরহে বোখারী ১ম খন্ড ১ম পারায় উল্লেখ করেছেনঃ

اتفق العلماء على حيات الانبياء عليهم السلام

অর্থঃ- “পূর্ব জামানার সমস্ত ওলামগণের ঐকমত্য হচ্ছেন নবী করীম[ﷺ] সশরীরে জীবিত এবং অন্যান্য নবীগণও।" একারণেই তাঁর দেওবন্দের চাকুরী চলে যায়।

রাসূল মাকবুল [ﷺ] ইরশাদ করেছেন- “যে কোন মুসলমান যে কোন স্থান থেকে আমাকে ছালাম জানায়- আল্লাহ তায়ালা আমার রূহানী তাওয়াজ্জুহ তার দিকে ফিরিয়ে দেন। অতঃপর আমি তার ছালামের জবাব দেই" (আবুদাউদ ও মিশকাত)।

বুঝা গেল, দুনিয়ার সব সালাম পাঠকারীর সালাম তিনি একসাথে শুনতে পারেন এবং একসাথে জবাবও দিতে পারেন। জালালুদ্দীন সুয়ূতি আল-হাভী গ্রন্থে নবী করীম [ﷺ] কর্তৃক রওযা মোবারক থেকে ৫টি দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করেছেন। তার মধ্যে দুটি হলোঃ- “উম্মাতের যাবতীয় আমল প্রত্যক্ষ করা এবং অলী-আল্লাহদের জানাযায় শরিক হওয়া।" ওয়াহাবী নেতা ইবনে কাইয়েম রচিত “জাল্লাউল আফহাম" নামক গ্রন্থে একখানা হাদীস এরূপ বর্ণিত হয়েছে “আনা আছমাউ ছালাতাকুম আলাইয়া বিলা ওয়াছিতাতিন"- অর্থাৎ, “আমি ফেরেশতাদের মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি তোমাদের সালাম শুনতে পাই।" (মূল নোছখা)

বুঝা গেল, করীম [ﷺ] সদা জাগ্রত এবং প্রেমিকদের সালাম সরাসরি শুনেন। ফেরেশতাগণ তাদের ডিউটি হিসাবে পরে তা পৌঁছান। মোহাদ্দেসীনগণ এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন -“মহব্বতের সালাম তিনি নিজে শুনেন এবং মুখের সালাম ফেরেশতারা পৌঁছায় (সূত্রঃ আবূ দাঊদ ২০৪২; নাসায়ী ১২৮২; জাআলহক)।


সমস্ত নবীরা তাদের কবরে জীবিত

সমস্ত নবি  ওফাতের পর তাঁদের নিজ নিজ সমাধিতে জীবিত এবং সেখানে তাঁরা নামাজ পড়েন।

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -: الْأَنْبِيَاءُ أَحْيَاءٌ فِي قُبُورِهِمْ يُصَلُّونَ-  


-‘‘হযরত আনাস বিন মালিক (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন : নিশ্চয় আম্বিয়ায়ে কিরাম (রাঃ) তাঁদের নিজ নিজ কবরে জীবিত এবং তারা সেখানে নামায আদায় করেন।’’

➤ ইমাম আবু ই‘য়ালা : আল মুসনাদ : ৬/১৪৭ পৃ: হাদিসঃ ৩৪২৫, ইমাম বায়হাকী : হায়াতুল আম্বিয়া : ৬৯-৭০ পৃষ্ঠা,ইমাম হায়সামী : মাযমাউদ যাওয়াইদ : ৮/২১১ পৃষ্ঠা, হাদিস ১৩৮১২, ইমাম আবু নঈম ইস্পাহানী : তবকাতে ইস্পাহানী : ২/৪৪ পৃ:, ইমাম আদী : আল কামিল : ২/৭৩৯ পৃ:,ইমাম জালালুদ্দীন সূয়ুতী: আল-জামেউস সগীর : ১/২৩০ পৃ: হাদিস- ৩০৮৯, ইমাম জালালুদ্দীন সূয়ুতী: শরহুস সুদূর:  পৃষ্ঠা, ২৩৭, আহলে হাদিস নাসিরুদ্দীন আলবানী: সিলসিলাতুস সহীহা: হাদিস : ৬২২, আহলে হাদিস নাসিরুদ্দীন আলবানী : সাহীহুল জামে : হাদিস নং- ২৭৯০, দায়লামী, আল-ফিরদাউস, ১/১১৯ পৃষ্ঠা, হাদিস ৪০৩।


ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতি (رحمة الله) বলেন, হাদিসটি ‘হাসান’। ➤ সূয়ুতি, আল-জামেউস সগীর : ১/২৩০ পৃ: হাদিস- ৩০৮৯ এবং শরহুস সুদূর:  পৃষ্ঠা, ২৩৭

আলবানী তার দুটি গ্রন্থে হাদিসটি সহীহ বলে মত প্রকাশ করেছেন। ➤আলবানী, সিলসিলাতুস সহীহা: হাদিস/৬২২ এবং সহীহুল জামে : হাদিস/২৭৯০


অপরদিকে আল্লামা নুরুদ্দীন ইবনে হাজার হাইসামী (رحمة الله) বলেন-

رَوَاهُ أَبُو يَعْلَى وَالْبَزَّارُ، وَرِجَالُ أَبِي يَعْلَى ثِقَاتٌ.

-‘‘এ হাদিসের সকল রাবি সিকাহ বা বিশ্বস্ত।’’


➤ মাযমাউয-যাওয়াইদ, ৮/২১১ পৃষ্ঠা, হা/১৩৮১২, এ বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমার লিখিত ‘‘প্রমাণিত হাদিসকে জাল বানানোর স্বরূপ উন্মাচন’’ এর ১ম খন্ডের ৪০৭-৪১১  পৃষ্ঠা, দেখুন। ইনশাআল্লাহ আপনাদের সঠিক বিষয়টি বুঝে আসবে।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:وَقَدْ رَأَيْتُنِي فِي جَمَاعَةٍ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ، فَإِذَا مُوسَى قَائِمٌ يُصَلِّي، فَإِذَا رَجُلٌ ضَرْبٌ، جَعْدٌ كَأَنَّهُ مِنْ رِجَالِ شَنُوءَةَ، وَإِذَا عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَائِمٌ يُصَلِّي، أَقْرَبُ النَّاسِ بِهِ شَبَهًا عُرْوَةُ بْنُ مَسْعُودٍ الثَّقَفِيُّ، وَإِذَا إِبْرَاهِيمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَائِمٌ يُصَلِّي، أَشْبَهُ النَّاسِ بِهِ صَاحِبُكُمْ - يَعْنِي نَفْسَهُ - فَحَانَتِ الصَّلَاةُ فَأَمَمْتُهُمْ-

-‘‘রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন, মি‘রাজের রাত্রে আম্বিয়া (عليه السلام) এর এক বিরাট জামাতকে দেখেছি, মুসা (عليه السلام)কে তার কবরে নামায পড়তে দেখেছি। তাকে দেখতে মধ্য আকৃতির চুল কোকরানো সানওয়া দেশের লোকের মত। আমি ঈসা (عليه السلام) কে দন্ডায়মান অবস্থায় নামায পড়তে দেখেছি, তিনি দেখতে ওরওয়া ইবনে মাসউদ সাকাফীর মত ........... তার পরে নামাযের সময় আসলো আমি সকল নবী (عليه السلام)এর ইমামতি করলাম।’’  

➤ ইমাম মুসলিম : সহীহ : ফাদ্বায়েলে মূসা (عليه السلام) : ১/১৫৭ : হাদিস : ১৭৩, খতিব তিবরিজী : মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩/২৮৭ : হাদিস : ৫৮৬৬,ইমাম বায়হাকী : দালায়েলুল নবুয়ত : ২/৩৮৭ পৃ:, ইমাম তকি উদ্দিন সুবকী :শিফাউস-সিকাম : ১৩৫-১৩৮ পৃষ্ঠা, ইমাম সূয়ূতী : আল-হাভীলিল ফাতওয়া : ২/২৬৫পৃ:, ইমাম সাখাভী : কওলুল বদী : ১৬৮ পৃষ্ঠা, ইমাম মুকরিজী : ইমতাঈল - আসমা: ৮/২৪৯ পৃ:

বুঝা গেল যে সমস্ত নবীরাই তাদের কবরে জীবিত থাকার কারণে বায়তুল মুকাদ্দাসে উপস্থিত হয়েছিলেন।


৮৬ হিজরী সনের ঘটনাঃ

৮৬ হিজরী সনে উমাইয়া খলিফা ওয়ালিদ ইবনে আবদুল মালিক-এর যুগে মসজিদে নববী দ্বিতীয়বার সম্প্রসারিত হয়। তখন মদীনার গভর্ণর ছিলেন হযরত ওমর ইবনে আবদুল আযিয (رضي الله عنه)। তিনি যাজান নামক এক কারিগরের দ্বারা মসজিদে নববীর সম্প্রসারণ কাজ সমাধা করেন। তিনি মসজিদকে পূর্বদিকে সম্প্রসারণ করে রওযা মোবারককে মসজিদের ভিতরে নিয়ে আসেন।

সেসময়ে একটি আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটেছিল- রওযা মোবারকের এক দিকের দেয়াল ঐ সময় ভেঙ্গে যায়। রওযা মোবারকের ভিতর থেকে একখানা পা মোবারক দৃষ্টিগোচর হয়। উপস্থিত সকলে ভীত ও সন্ত্রস্ত্র হয়ে পড়লেন এ কথা ভেবে যে, হয়তো বা তা নবী করীম [ﷺ]-এঁর কদম মোবারক হবে। কিন্তু উপস্থিত হযরত উরওয়াহ্ ইব্নে যোবাইর (رضي الله عنه) অনুসন্ধান করে বললেন- এটা হযরত ওমর (رضي الله عنه)-এর কদম মোবারক –রাসুল্লাল্লাহর নয়। সুব্হানাল্লাহ্! ২৩ হিজরীতে হযরত ওমর (رضي الله عنه) শহীদ হন। ৮৬ হিজরীতে এসেও তাঁর কদম মোবারক তরতাজা ছিল। মূলতঃ শহীদগণ অমর।

৫০৯ ও ৫৫৭ হিজরী সনের ঘটনাঃ

অনুরূপভাবে ৫০৯ হিজরী সালে এবং ৫৫৭ হিজরীতে যথাক্রমে হযরত বড়পীড় আবদুল কাদে জিলানী (رضي الله عنه) সাইয়েদ আহমদ রেফায়ী (رحمة الله عليه) মদীনা শরীফ যিয়ারতকালে তাঁদের ফরিয়াদে জিন্দা নবী রাসুলে করীম [ﷺ]-এঁর ডান হাত মোবারক রওযা শরীফ থেকে উপরে উঠে আসে এবং তাঁরা হস্ত মোবারক চুম্বন করেন। (বাহ্জাতুল আসরার, নুজহাতুল খাতির, হুসনুল মাকাসিদ- প্রভৃতি গ্রন্থ)। নবীগণ এবং অলীগণ কবরে যিন্দা থাকেন- তার বাস্তব প্রমাণ উক্ত তিনটি ঘটনা। জালালুদ্দীন সূয়ুতির হুসনুল মাকাসিদ, আবুল হাসান শাতনুফীর বাহ্জাতুল আসরার ও মোল্লা আলী ক্বারীর নুজহাতুল খাতির গ্রন্থের নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে কারো কোন সন্দেহ থাকতে পারেনা। অধমের রচিত কারামাতে গাউসুল আযম (رضي الله عنه) গ্রন্থে হুযুরের হাত উত্তোলনের আরবী দলীল দেখুন।

এক নজরে তাদের সম্পর্কে আরও কিছু আক্বিদা

নবিগণ শিরক, কুফুরী, ওই ধরনের কাজ, যার দ্বারা মানুষের কাছে ঘৃণার পাত্র হতে হয়, যেমন মিথ্যা, আত্মসাৎ, অজ্ঞতা ইত্যাদি ও মান-সম্মান বিবর্জিত আচরণ থেকে নবুয়াতের আগে ও পরে তাঁরা ইচ্ছাকৃত সগিরা গুনাহ থেকেও পবিত্র। (উসূলে বাযদবী, ১৬৭পৃ.)

আল্লাহ তা‘য়ালা সমস্ত নবিদেরকে ইলমে গায়ব দান করেছেন।

➤সুরা নিসা, ২৬-২৭, সুরা আলে-ইমরান-১৭৯,  সুরা তাকবীর, ২৪

আসমান জমীনের প্রতিটি অণু পরমাণু নবিদের সামনে উদ্ভাসিত। তাঁদের এ ইলমে গায়ব (অদৃশ্য জ্ঞান) খোদা প্রদত্ত। প্রদত্ত জ্ঞান আল্লাহর জন্য অসম্ভব। কেননা তার কোন সিফাত বা কামালিয়াত কারো প্রদত্ত হতে পারে না, বরং তাঁর  সমস্ত গুণবলী সত্তাগত। কিয়ামত সম্পকির্ত ঘটনাবলীর আগাম বর্ণনাই হুযুরে পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইলমে গায়বের প্রমান বহন করে ।

চলবে .......





কোন মন্তব্য নেই

Be alert before spamming comments.

Blogger দ্বারা পরিচালিত.