"ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং" এসএসসি ২০২১ ষষ্ঠ সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর

 

এসএসসি ২০২১ "ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং" ৬ষ্ঠ সপ্তাহের এসাইনমেন্ট অ্যাসাইনমেন্ট প্রশ্ন উত্তর সমাধান PDF

২০২১ সালের ‍এস এস সি পরীক্ষার্থীদের "ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং" ষষ্ঠ সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর সমাধান। ১০ শ্রেণি বা এসএসসির "ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং" ষষ্ঠ সপ্তাহের এসাইনমেন্ট প্রশ্ন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে (www.dshe.gov.bd) প্রকাশ করা হয়েছে। আপনি যদি ২০২১ এসএসসি (SSC) পরীক্ষার্থী হয়ে থাকেন তবে দেখে নিন এসএসসি ষষ্ঠ সপ্তাহ এসাইনমেন্ট প্রশ্ন ও উত্তর।

এসএসসি "ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং" ৬ষ্ঠ সপ্তাহের এসাইনমেন্ট ২০২১

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস এর অতিমারির কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক প্রণীত ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস এর আলোকে এসএসসি ২০২১ ষষ্ঠ সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশিত হয়েছে। ২৩ আগস্ট ২০২১ অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২০২১ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের ষষ্ঠ সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ।

২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার এসাইনমেন্ট ৬ষ্ঠ সপ্তাহ "ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং"

অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশের গ্রিড অনুযায়ী মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর গত ১৬ আগস্ট ২০২১ এসএসসি ২০২১ পঞ্চম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ করে যার ধারাবাহিকতায় ২৩ আগস্ট ষষ্ঠ সপ্তাহের নির্ধারিত বিষয়সমূহের অ্যাসাইনমেন্ট বাড়ির কাজ প্রদান করা হয়।

এসএসসি ২০২১ ষষ্ঠ সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট

২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত সংক্ষিপ্ত সিলেবাস এর আলোকে প্রণীত সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট সকল শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ভূগোল ও পরিবেশ, রসায়ন, হিসাববিজ্ঞান, অর্থনীতি, জীববিজ্ঞান, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং, পৌরনীতি ও নাগরিকতা, "ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং" পাঠ্য বই সমূহ থেকে ষষ্ঠ সপ্তাহের এসাইনমেন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ থেকে আগামী ২৪ আগস্ট ২০২১ থেকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে অ্যাসাইনমেন্ট সমূহ সংগ্রহ করবে এবং ২৯ আগস্ট ২০২১ তারিখের মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রদত্ত অ্যাসাইনমেন্ট লেখার গাইডলাইন অনুসরণ করে সম্পন্ন করার পর সংশ্লিষ্ট বিষয় শিক্ষকের নিকট জমা দিবে।

২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার এসাইনমেন্ট ৬ষ্ঠ সপ্তাহ "ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং"



নির্দেশক প্রশ্নঃ


ক) ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার ধারণা

খ) ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার পার্থক্য

গ) ঝুঁকির শ্রেণি

ঘ) আদর্শ বিচ্যুতির মান নির্ণয়

ঙ) আদর্শ বিচ্যুতির মানের প্রভাব বিশ্লেষণ


ক)ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার ধারনার সংজ্ঞা  :


ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা ব্যবসায়ের আর্থিক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাকে এক কথায় ঝুঁকি বলা হয়। জারিফ দশম শ্রেণির ছাত্র। সে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়ার প্রত্যাশা করে। আলী সাহেব একজন কৃষক। তিনি তার জমি থেকে এ বছর ভালাে ফলন প্রত্যাশা করেন। আল গাফফার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ শেষ বর্ষের ছাত্র। সে তার বিবিএ ডিগ্রি শেষ করে একটি ভালাে চাকুরি পাওয়ার আশা করে। এখানে জারিফের জিপিএ ৫ পাওয়া, আলী সাহেবের জমি থেকে ভালাে ফলন পাওয়া এবং আল গাফফার এর ভালাে চাকরি পাওয়া প্রতিটি বিষয় ভবিষ্যতের সাথে জড়িত। আর ভবিষ্যৎ সবসময় অনিশ্চিত। যেহেতু ভবিষ্যৎ এর কোন বিষয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না তাই একে অনিশ্চয়তা বলে।

জারিফ জিপিএ ৫ পেতে পারে, নাও পেতে পারে, আলী সাহেবের জমিতে এ বছর ভালাে ফলন হতে পারে, আবার নাও হতে পারে এবং আল গাফফার ভালাে চাকরি পেতেও পাওে আবার নাও পেতে পারে। মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন অনিশ্চয়তা বিদ্যমান। মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে যেমন অনিশ্চয়তা রয়েছে তেমনিভাবে ব্যবসায়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম অনিশ্চয়তা বিদ্যমান। উদাহরণস্বরূপ ভবিষ্যতে কোম্পানির পণ্যের আশানুরূপ বিক্রয় হবে কি না, প্রত্যাশিত অনুযায়ী মুনাফা অর্জন করতে পারবে কি না, প্রত্যাশিত মূল্যে পণ্য তৈরির কাঁচামাল ক্রয় করতে পারবে কি না-এরূপ অসংখ্য অনিশ্চয়তা রয়েছে।

অনুরূপভাবে একজন বিনিয়ােগকারী কোম্পানির শেয়ার ক্রয় ও বিক্রয় করে প্রত্যাশিত লভ্যাংশ অর্জন করতে পরিবে কি না, একটি কোম্পানি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে বিনিয়ােগ থেকে প্রত্যাশিত নগদ প্রবাহ পাবে কি প্রত্যাশিত মূল্যে পণ্য তৈরির কাঁচামাল ক্রয় করতে পারবে কি না-এরূপ অসংখ্য অনিশ্চয়তা রয়েছে। অনুরূপভাবে একজন বিনিয়ােগকারী কোম্পানির শেয়ার ক্রয় ও বিক্রয় করে প্রত্যাশিত লভ্যাংশ অর্জন করতে পরিবে কি না, একটি কোম্পানি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে বিনিয়ােগ থেকে প্রত্যাশিত নগদ প্রবাহ পাবে কি এসব অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হয়। একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান প্রথমত অর্থ সংগ্রহ করে এবং বিভন্ন প্রকল্পে বিনিয়ােগ করে প্রত্যাশা অনুযায়ী মুনাফা অর্জন প্রত্যাশিত মূল্যে পণ্য তৈরির কাঁচামাল ক্রয় করতে পারবে কি না-এরূপ অসংখ্য অনিশ্চয়তা রয়েছে।


 
অনুরূপভাবে একজন বিনিয়ােগকারী কোম্পানির শেয়ার ক্রয় ও বিক্রয় করে প্রত্যাশিত লভ্যাংশ অর্জন করতে পরিবে কি না, একটি কোম্পানি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে বিনিয়ােগ থেকে প্রত্যাশিত নগদ প্রবাহ পাবে কি এসব অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হয়। একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান প্রথমত অর্থ সংগ্রহ করে এবং বিভন্ন প্রকল্পে বিনিয়ােগ করে প্রত্যাশা অনুযায়ী মুনাফা অর্জন কিন্তু প্রকৃত লাভ হলাে ৫%। এই যে মুনাফার ৫% বিচ্যুতি, একেই ঝুঁকি বলে। কোন বিনিয়ােগ হতে প্রত্যাশিত মুনাফার হার প্রকৃত মুনাফার হারের কম বেশি হওয়ার সম্ভাবনাকে ব্যবসায় অর্থায়নে ঝুঁকি বলা হয়। (ভ্যান হর্ন) এর মতে “কোন প্রকল্পের সম্ভাব্য আয়ের পরিবর্তনশীলতাকেই ঝুঁকি বলে।” J.J Hampton (হ্যাম্পটন) এর মতে, “কোন বিনিয়ােগ হতে প্রত্যাশিত রিটার্ন অপেক্ষা প্রকৃত রিটার্ন কম হওয়ার সম্ভাবনাকে ঝুঁকি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে।”

খ) ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পার্থক্যঃ

ঝুঁকির সৃষ্টি হয় অনিশ্চয়তা থেকে, তারপরেও ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। প্রথমত, সব অনিশ্চয়তা ঝুঁকি নয়। অনিশ্চয়তা পরিমাপ করা যায় না অন্যদিকে ঝুঁকি পরিমাপ করা যায়। অপ্রত্যাশিত কোনাে ঘটনা ঘটার আশঙ্কাই হচ্ছে অনিশ্চয়তা। কিন্তু অপ্রত্যাশিত কোনাে ঘটনা ঘটার আশঙ্কা কেমন তা যদি জানা না থাকে, তবে সেই অনিশ্চয়তাকে ঝুঁকি বলা যায় না। অন্যভাবে বলা যায়, অনিশ্চয়তার যে অংশটুকু পরিমাপ করা যায় সে অংশকে ঝুঁকি বলা হয়। কিছু কিছু অনিশ্চয়তা আছে, যা পরিমাপ করা যায়না। 

উদাহরণস্বরূপ, একটি কোম্পানির প্রধান নির্বাহির মৃত্যু হতে পারে, এটা একটা অনিশ্চয়তা, কিন্তু এই অনিশ্চয়তাকে পরিমাপ করা যায় না। ফলে এই রকম অনিশ্চয়তাকে ঝুঁকি বলা যায় না।দ্বিতীয়ত, ঝুঁকি পরিমাপ করা যায় বলে বিভিন্ন কৌশল প্রয়ােগ করে ঝুঁকির পরিমাণ কমানাে যায়। কিন্তু অনিশ্চয়তাকে বিভিন্ন কৌশল প্রয়ােগ করে কমানাে বা পরিহার করা যায় না। উদাহরণস্বরূপ, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে কোনাে কোম্পানির দালান ভেঙে যেতে পারে, কিন্তু ঘূর্ণিঝড় কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে নেই বলে এই অনিশ্চয়তাকে কোম্পানি পরিহার করতে পারে না। পক্ষান্তরে, ভবিষ্যতে কোম্পানির বিক্রয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা একটি ঝুঁকি। কারণ, এই ঝুঁকি পরিমাপ করা যায় এবং এই ঝুঁকি হ্রাস করার জন্য কোম্পানি বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে পারে।

গ)ঝুঁকির শ্রেণি বা প্রকারভেদ :

একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন প্রকার ঝুঁকি বিদ্যমান থাকে। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেকটি সিদ্ধান্তের সাথে কিছু না কিছু ঝুঁকি জড়িত থাকে। আর এসব ঝুঁকির কারণে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য এসব ঝুঁকির উৎস ও শ্রেণি বিভাগ চিহ্নিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ। নিচে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ঝুঁকির উৎস ও প্রকারভেদ আলােচনা করা হলাে: ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টিকোণ থেকে ঝুঁকির প্রকারভেদ:

ক. আর্থিক ঝুঁকি (Financial Risk) 

খ. ব্যবসায়িক ঝুঁকি (Business Risk)
ক. আর্থিক ঝুঁকি (Financial Risk):
কোন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মূলধন কাঠামােতে ঋণকৃত মূলধন ব্যবহারের ফলে যে ঝুঁকির সৃষ্টি হয় তাকে আর্থিক ঝুঁকি বলা হয়। অর্থাৎ কোন বিনিয়ােগ হতে ঋনকৃত মূলধনের সুদ এবং আসল করার মতাে পর্যাপ্ত নগদ প্রবাহ পাওয়ার সম্ভাবনাকে আর্থিক ঝুঁকি বলা হয়। সাধারনত ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে আর্থিক ঝুঁকির সৃষ্ঠি হয়। যদি কোন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে ঋণকৃত মূলধন ব্যবহার করা না হয় তাহলে ঐ প্রতিষ্ঠেিন কোন আর্থিক ঝুঁকি থাকে না। 

একদিকে ঋণকৃত মূলধন ব্যবহার করা হলে প্রতিষ্ঠানের মালিকদের যেমন আয় বৃদ্ধি পায় অন্যদিকে আর্থিক দায় বৃদ্ধি পায়। যে সকল প্রতিষ্ঠানে ঋণকৃত মূলধনের পরিমাণ বেশি, সে সকল প্রতিষ্ঠানে আর্থিক ঝুঁকি ও বেশি। কারণ ঋণকৃত মূলধনের জন্য সুদ প্রদান করা বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ উৎস হতে অর্থ সংগ্রহ করা হলে মুনাফা প্রদান বাধ্যতামূলক নয়। ঋণকৃত মূলধন ব্যবহার করা হলে সুদ এবং উক্ত ঋণকৃত অর্থ পরিশােধের দায় সৃষ্টি হয়।

উদাহরণস্বরূপ, কোনাে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান যদি সােনালী ব্যাংক হতে ১৫% হারে ৫০ লক্ষ টাকা ৫ বছরের জন্য ঋণ গ্রহণ করে, তাহলে প্রতিবছর ৭৫০,০০০ টাকা সুদ এবং পাঁচ বছর শেষে ৫০ লক্ষ টাকা পরিশােধের দায় সৃষ্টি হয়। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সাধারণত ঋণকৃত মূলধন বিনিয়ােগ থেকে প্রাপ্ত নগদ প্রবাহ দিয়ে ঋণকৃত মূলধনের দায় পরিশােধ করে। কোনাে কারণে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বিনিয়ােগকৃত অর্থ থেকে পর্যাপ্ত নগদ প্রবাহ পেলে দায় পরিশােধে ব্যর্থ হতে পারে।

দীর্ঘসময় দায় পরিশােধ করতে ব্যর্থ হলে ঋণ সরবরাহকারী ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান ঋণগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারে এবং প্রতিষ্ঠনিটি দেউলিয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে আর্থিক দায় পরিশােধের ব্যর্থতা থেকে যে ঝুঁকির সৃষ্টি হয়, তাকে আর্থিক ঝুঁকি বলে।  “কোন বিনিয়ােগ হতে ঋনকৃত অর্থের সুদ পরিশােধ অথবা সুদসহ ঋণের অর্থ পরিশােধ অথবা ফার্মো জন্য মুনাফার ব্যবস্থা করার মতাে পর্যাপ্ত নগদ প্রবাহ না পাওয়ার সম্ভাবনাকে আর্থিক ঝুঁকি বলা হয়।”

খ. ব্যবসায়িক ঝুঁকি (Business Risk):
ব্যবসায়িক ঝুঁকি সাধারনত আয়ব্যয়ের অনিশ্চয়তা থেকে সৃষ্টি হয়। একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সফলভাবে পরিচালনা করার জন্য বিভিন্ন রকম পরিচালনা ব্যয়ের দরকার হয়। উদাহরণস্বরূপ, কাঁচামাল ক্রয়, বিক্রয় খরচ, কর্মচারিদের বেতন, অফিস ভাড়া, বিমা খরচ ইত্যাদি। এসব পরিচালনা খরচ পরিশােধের অক্ষমতা থেকে ব্যবসায়িক ঝুঁকির সৃষ্টি হয়। কোনাে কোম্পানির পরিচালনা ব্যয় মেটানাের সক্ষমতা নির্ভর করে বিক্রয় থেকে আয়েরস্থতিশীলতা এবং পরিচালনা খরচের মিশ্রণ অর্থাৎ স্থায়ী এবং চলতি খরচের অনুপাতের উপর। বিক্রয় আয়ে যদি স্থিতিশীলতা না থাকে অথাৎ কোনাে সময় আয় বেশি হলে আবার কোনাে সময় আয় কম হলে, ব্যসায় প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা ব্যয় মেটানাের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। আবার পরিচালন ব্যয়ে স্থায়ী খরচ l

যেমন: অফিস ভাড়া, বিমা খরচ ইত্যাদির পরিমাণ বেশি হলে ব্যবসায়িক ঝুঁকির সৃষ্টি হয়। কোন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান যদি সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে থাকে অর্থাৎ কোম্পানি কোনাে বহিস্থ অর্থায়ন না করে তখন মুনাফা সংক্রান্ত এই অনিশ্চয়তাকে ব্যবসায়িক ঝুঁকি বলে। ব্যবসায়িক ঝুঁকির অন্যতম উৎস হলাে বিক্রয়মল্যের পরিবর্তন, বিক্রয়ের পরিমাণ পরিবর্তন, উৎপাদনের উপকরণের মূল্য পরিবর্তন, চাহিদার পরিবর্তন, অতিরিক্ত স্থায়ী খরচের প্রবণতা ইত্যাদি।

Weston and Brigham এর মতে “যদি কোন ব্যসায় প্রতিষ্ঠান ঋণ করা অর্থ ব্যবহার না করে শুধুমাত্র নিজস্ব মূলধন বা সম্পত্তি ব্যবহান করে এবং ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যাশিত মুসাফার অনিশ্চয়তা দেখা দেয় তাহলে তাকে ব্যবসায় ঝুঁকি বলা হয়।”

ঘ)আদর্শ বিচ্যুতির মান নির্ণয়

আদর্শ বিচতি (Standard Deviation): আদর্শ বিচ্যুতি হলাে ঝুঁকি পরিমাপ করার এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে অতীতে অর্জিত পৃথক পৃথক আয় হতে গড় আয় হারের পার্থক্যের বর্গের সমষ্টিকে প্রতিটি আয়ের সম্ভাবনা দ্বারা আথবা বছরের সংখ্যা দ্বারা ভাগ করা হয় এবং বর্গমূল করা হয়। আদর্শ বিচ্যুতি ব্যবহার করে অতীতে অর্জিত আয়ের বিচ্যুতি থেকে যেমন ঝুঁকি পরিমাপ করা যায়, তেমনিভাবে ভবিষ্যতে প্রত্যাশিত আয়ের ঝুঁকি ও পরিমাপ করা যায়। এটি একটি পরিসংখ্যানিক পদ্ধতি। নিচে আদর্শ বিদুতি নির্ণয়ের সূত্র দেয়া হলাে :



ঙ) আদর্শ বিচ্যুতি মানের প্রভাব বিশ্লেষণ

আদর্শ বিচ্যুতি হলাে ঝুঁকি পরিমাপ করার এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে অতীতে অর্জিত পৃথক পৃথক আয় হতে গড় আয় হারের পার্থক্যের বর্গের সমষ্টিকে প্রতিটি আয়ের সম্ভাবনা দ্বারা অথবা বছরের সংখ্যা দ্বারা ভাগ করা হয় এবং বর্গমূল করা হয়। সাধারণত আদর্শ বিচ্যুতির মান যত বেশি ঝুঁকিও তত বেশি এবং আদর্শ বিচ্যুতির মান যত কম বা ছােট তার কম ঝুঁকি নির্দেশ করে।

উদাহরণ ১:
নিচের ছকে, একটি প্রকল্পের ২০১০ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এই পাঁচ বছরের আয় দেয়া আছে। আমরা এর আয় ও ঝুঁকি গণনা করব।

  ১: নিচের ছকে, একটি প্রকল্পের ২০১০ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এই পাঁচ বছরের আয় দেয়া আছে। আমরা এর আয় ও ঝুঁকি গণনা করব।

বছরআয় (%)গড় থেকে ব্যবধান (আয় – গড়)ব্যবধানের বর্গ
২০১০(৫-১৩)= -৮(-৮x-৮)=৬৪
২০১১২০(২০-১৩)= ৭(৭x৭)=৪৯
২০১২(০-১৩)= -১৩(-১৩x-১৩)=১৬৯ 
২০১৩২৫(২৫-১৩)= ১২(১২x১২)=১৪৪
২০১৪১৫(১৫-১৩)= ২(২x২ =৪)
যােগফল=৬৫%ব্যবধানের বর্গের যােগফল = ৪৩০
গড় আয়৬৫/৫=১৩%ব্যবধানের বর্গের গড়=৪৩০/(ন-১)১০৭.৫

আদর্শ বিচ্যুতি = ১০৭.৫ = ১০.৩৭% প্রথমে বিগত পাঁচ বছরের আয় যােগ করে ৫ দিয়ে ভাগ করলে গত পাঁচ বছরের গড় আয় পাওয়া যাবে। উপরের টেবিলে দেখা যাচ্ছে গড় আয় ১৩%। এবার ঝুঁকি পরিমাপ করার জন্য আদর্শ বিচ্যুতি প্রয়ােগ করবাে। প্রথমে আমরা প্রতিবছরের আয় থেকে গড় আয় বা ১৩%-এর ব্যবধান বের করব। এর পরের কলামে এটাকে বর্গ করতে হবে। এবার উক্ত বর্গসমূহের যােগফল হলাে ৪৩০। 

একে (ন-১) বা (৫-১) বা ৪ দিয়ে ভাগ করতে হবে। যত বছরের আয় তা থেকে সর্বদাই ১ কম দিয়ে ভাগ করতে হবে। ভাগফলকে বর্গমূল করলে আমরা আদর্শ বিচ্যুতি পাব। উদাহরণে এটা ১০.৩৭%। সুতরাং ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত আয়ের ভিত্তিতে আমাদের গড় আয় ১৩% আর ঝুঁকির পরিমাণ ১০.৩৭%।

এই আয় ও ঝুঁকি ব্যবহার করে আমরা ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারব। যেমন: এই প্রকল্পের বিকল্প একটা প্রকল্পে যদি আমরা ১৩% আয় পাই এবং আদর্শ বিচ্যুতি ১৪%, তবে বিকল্প প্রকল্প থেকে আমাদের প্রথম প্রকল্প বেশি গ্রহণযােগ্য। কারণ সমপরিমাণ আয় কিন্তু ঝুঁকি কম হওয়ায় প্রথম প্রকল্প গ্রহণযােগ্য। 

আবার অন্য একটি বিকল্প প্রকল্পে যদি সমান ঝুঁকি হয় কিন্তু লাভের গড় কম হয়, তবে সেটা থেকেও আমাদের মূল প্রকল্প বেশি গ্রহণযােগ্য। কারণ সমান ঝুঁকিতে অধিক লাভ বেশি গ্রহণযােগ্য।

Post a Comment

Previous Post Next Post